কুখ্যাত ও সাজাপ্রাপ্ত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসে জেরার মুখে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস তার একাধিক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে এপস্টেইন তার এই কর্মকাণ্ডের কথা জানতে পেরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও সাক্ষ্য দিয়েছেন গেটস।

মার্কিন কংগ্রেসের ওভারসাইট কমিটিকে দেওয়া সাক্ষ্যের শুরুতে বিল গেটস দুই রুশ নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানান। তার সেই দুই সঙ্গী হলেন ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা ও পারমাণবিক পদার্থবিদ কারিমা নিগমাতুলিনা।
গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিলিপি অনুযায়ী, ৭০ বছর বয়সী বিশ্বের এই সাবেক শীর্ষ ধনী একজন চিকিৎসা উদ্যোক্তা ড. অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরোডটের সঙ্গে তৃতীয় আরেকটি সম্পর্কের কথাও স্বীকার করেছেন।
বিল গেটস বলেন, ‘তিনি কখনই আমাকে ব্ল্যাকমেইল করেননি; তবে এই ইমেইলগুলোর দিকে তাকালে এটি প্রবল সম্ভাবনার জন্ম দেয় যে, তিনি আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার কথা ভেবেছিলেন।’
মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতার ওপর সুবিধা আদায়ের জন্য এপস্টেইনের প্রচেষ্টার বিষয়টি জানুয়ারিতে মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত ফাইলগুলোতে উন্মোচিত হয়েছে। গেটসের কর্মী বরিস নিকোলিকের পক্ষে লেখা সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধীর খসড়া করা একটি ইমেইলে তার গোপন সম্পর্কগুলোর কথা উল্লেখ রয়েছে।
ইমেইলটিতে লেখা ছিল, ‘রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌন মিলনের পরিণতি সামলাতে বিলকে মাদক জোগাড় করে সাহায্য করা থেকে শুরু করে, বিবাহিত নারীদের সঙ্গে তার অবৈধ অভিসারে সহায়তা করা, এমনকি ব্রিজ টুর্নামেন্টের জন্য অ্যাডেরাল (উদ্দীপক ওষুধ) সরবরাহ করার নির্দেশ পাওয়া… এগুলো আমার ভবিষ্যতের প্রতি অসততা হবে।’
বিল গেটস এই ইমেইলটিকে কোম্পানি ছেড়ে যাওয়া কর্মী বরিসের জন্য দরকষাকষির একটি ভালো অবস্থান তৈরি করতে ‘ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা’ বলে বর্ণনা করেছেন। গেটস যখন একজন রাশিয়ান নারীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় বরিসকে নিজের ‘অ্যালিবাই’ (অন্য কোথাও থাকার প্রমাণ বা অজুহাত) হিসেবে ব্যবহার করতে বলেছিলেন, তখনই বরিস তার নিয়োগকর্তার এসব গোপন সম্পর্কের কথা জানতে পারেন।
বরাবরের মতোই নিজের জবানবন্দিতে গেটস দাবি করেছেন, এপস্টিন কাউকে নির্যাতন করছেন—এমন কোনো দৃশ্য তিনি কখনো দেখেননি। তবে তিনি এও জানান, না বুঝেই হয়তো তিনি ভুক্তভোগীদের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, এপস্টিনের প্রতিষ্ঠানে কাজ করা যে নারী ও কিশোরীরা পরে নির্যাতনের শিকার হিসেবে সামনে এসেছেন, তারা সেই সময় ওখানেই কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
রুদ্ধদ্বার জবানবন্দিতে তিনি মেনে নেন যে, বিয়ের বাইরে কোনো সম্পর্কের কারণে তিনি হয়তো যৌনবাহিত কোনো রোগে সংক্রমিত হতে পারেন—এমন একটা ভয় তার ছিল। তবে গেটস বলেন, এপস্টিনের চিঠির দাবিগুলো সত্য নয় এবং তার কোনোদিনও কোনো যৌনবাহিত রোগ ছিল না।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ও দ্য সান
Follow
Follow iNews Zoombangla On Google
Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from iNews Zoombangla in your Google news feed.

