বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত এক শিক্ষার্থীর নামে পাওয়া সরকারি অনুদানের অর্থ নিয়ে ময়মনসিংহে একটি পরিবারে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর মায়ের অভিযোগ, তার স্বামী ছেলের নামে পাওয়া অনুদানের অর্থ ব্যয় করে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। যদিও অভিযুক্ত বাবা এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

ঘটনাটি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশাসন গ্রামের। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন।
আব্দুল মতিনের প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগমের দাবি, গত ২৯ মে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়েতে সাত লাখ টাকা কাবিন এবং প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, এসব ব্যয় করা হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে পাওয়া সরকারি অনুদানের অর্থ থেকে।
শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন গত বছরের ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন। গুলি তার মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে দুই দিন পর, ২০ জুলাই তিনি মারা যান।
মমতাজ বেগম বলেন, ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে চাপ দিতে শুরু করেন। বংশ রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে বারবার নতুন করে সংসার করার কথা বলতেন। তার দাবি, বর্তমান আর্থিক অবস্থায় দুই পরিবার পরিচালনার সামর্থ্য আব্দুল মতিনের নেই।
তবে সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন আব্দুল মতিন। তিনি বলেন, নিজের উপার্জিত অর্থেই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত থাকায় তার আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে। ছেলের অনুদানের অর্থ ব্যবহার করার অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
আব্দুল মতিনের ভাষ্য, বংশ রক্ষার চিন্তা এবং মায়ের অনুরোধে তিনি দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিয়ের আগে প্রথম স্ত্রীর সম্মতিও নিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে পরিবারে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। তবে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তার মতে, পরিবারটিতে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাকে নিয়েও পরিবার পরিচালনা করা সম্ভব ছিল।
অভিযোগ ও পাল্টা দাবির মধ্যে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারি অনুদানের অর্থের ব্যবহার এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত—দুই দিক থেকেই ঘটনাটি এখন জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
Follow iNews Zoombangla On Google
Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from iNews Zoombangla in your Google news feed.

