অভাবে মেয়েকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি, স্ত্রীকে জানান ‘জিন-পরী নিয়ে গেছে’

মাগুরায় অর্থের অভাবে নিজের দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশুকে স্ত্রীর অগোচরে বিক্রি করে দিয়েছেন সাগর হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তি। পরে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে স্ত্রীর কাছে নাটক সাজিয়ে বলেছিলেন, ‘মেয়েকে জিন-পরি নিয়ে গেছে।’ বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে বাড়িতে ওঝা-কবিরাজ ডেকে ঝাড়ফুঁকও করিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে ২২ দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার হয়েছে। ফিরে পেয়েছে মায়ের কোল।

ঘটনাটি মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী গ্রামে ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত আটটায় মাগুরার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন সাগর হোসেন তার নবজাতক কন্যা টুকটুকিকে বিক্রি করে দেন। দত্তক হিসেবে ক্রেতা ছিলেন সদর উপজেলার দক্ষিণ বীরপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শাহাবুর (২৮) ও মনিরা খাতুন (২৫) দম্পতি। ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে এই অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরও অন্তত তিনজন ভূমিকা রাখেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, সন্তানকে বিক্রির সময় সাগর প্রতারণার আশ্রয় নেন। তিনি ওই দম্পতির সামনে অন্য এক নারীকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তার স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত এবং চিকিৎসার খরচ জোগাতেই তিনি সন্তান বিক্রি করছেন।

অন্যদিকে নিজের আসল স্ত্রী তানজিলা খাতুনের কাছে বাচ্চার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে ‘জিনে নেওয়ার’ গল্প ফাঁদেন এবং জিনের মাধ্যমেই বাচ্চা ফেরত আনা হবে আশ্বাস দিয়ে ২১ দিন অতিবাহিত করেন।

পরে বাচ্চার খোঁজ না পেয়ে তানজিলা খাতুন ব্যাকুল হয়ে পড়েন এবং বুধবার শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) শুভংকর রায়কে জানান। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে শাহাবুর ও মনিরা দম্পতির হেফাজত থেকে শিশু টুকটুকিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, দারিদ্র্য কখনোই সন্তান বিক্রির অজুহাত হতে পারে না। এটি জঘন্য ও দণ্ডনীয় অপরাধ। ক্রেতা দম্পতির আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়; তারা গরু বিক্রি করে বাচ্চাটি কিনেছেন বলে দাবি করেন। তবে কম বয়সী এই দম্পতি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বা পাচারের জন্য বাচ্চাটি কিনেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সাগর হোসেন, ক্রেতা দম্পতি ও কেনাবেচায় সহায়তাকারী মধ্যস্থতাকারীদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

শিশুটির মা তানজিলা খাতুন বলেন, তাদের আরও দুটি সন্তান আছে। তৃতীয় সন্তান জন্মের ১৩ মাস আগে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে দুই শিশু জন্মের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক চাপে পড়ে তার স্বামী এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন বলে তার ধারণা। তিনি বলেন, ‘যত কষ্টই হোক, কোনো মা তার সন্তান অন্যকে দিতে চায় না। আমার স্বামী ভুল করেছে, তাকে ক্ষমা করে দিন।’

Zoom Bangla News

Zoom Bangla News

inews.zoombangla.com

Follow

Follow iNews Zoombangla On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from iNews Zoombangla in your Google news feed.

Follow iNews Zoombangla On Google

Leave a Comment