শীতে বাড়ছে হাঁপানি, ইনহেলার কাছে না থাকলে জরুরি ভিত্তিতে কী করবেন?

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁপানি রোগীদের ভোগান্তিও বেড়ে যায়। ঠান্ডা বাতাস, কুয়াশা, ধুলোবালি কিংবা ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে অনেকের হঠাৎ করেই শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় বুকে চাপ অনুভব, কাশি বেড়ে যাওয়া বা শ্বাস নেওয়ার সময় সাঁই সাঁই শব্দ শীতকালে বেশি দেখা যায়। এমন অবস্থায় হঠাৎ হাঁপানির টান উঠলে এবং কাছে ইনহেলার না থাকলে কী করণীয়—তা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

হাঁপানি

হাঁপানি

🫁 হাঁপানির সাধারণ উপসর্গ

হাঁপানির লক্ষণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা যায় সেগুলো হলো—

-অল্প পরিশ্রমেই হাঁপ ধরে যাওয়া

-বুকে চাপ বা ব্যথা অনুভব হওয়া

-শ্বাস নিতে ও ছাড়তে কষ্ট হওয়া

-রাতে কাশি বেড়ে যাওয়া

-বারবার হাঁচি আসা

-শ্বাস নেওয়ার সময় বুকে সাঁই সাঁই শব্দ

-চোখ দিয়ে পানি পড়া ও চোখে জ্বালাপোড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাস সংক্রমণ বা ভাইরাল জ্বর হলে হাঁপানির সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে। এ ছাড়া ধুলোবালি, ফুলের রেণু, পোষা প্রাণীর লোম, লেপ-তোশক ও বালিশের ধুলো, তীব্র সুগন্ধি, কিছু খাবার এবং নির্দিষ্ট ব্যথানাশক ওষুধ হাঁপানির টান বাড়াতে পারে।

হঠাৎ হাঁপানির টান উঠলে করণীয় (ইনহেলার না থাকলে)

এমন পরিস্থিতিতে নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করতে পারেন—

শুয়ে পড়বেন না:
রোগীকে সোজা হয়ে বসতে সাহায্য করুন। পিঠ সোজা রাখা জরুরি। ঝুঁকে বসলে শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যেতে পারে।

শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন:
সোজা হয়ে বসে ধীরে গভীর শ্বাস নিন, কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। কয়েকবার এভাবে করুন। পরে নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ধীরে ছাড়ুন। এতে শ্বাস নেওয়ার গতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।

গরম পানির ভাপ নিতে পারেন:
গরম পানির বাষ্প শ্বাসকষ্টে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে পানিতে ইউক্যালিপটাস তেল বা কোনো এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার না করাই ভালো, এতে অ্যালার্জি বাড়তে পারে।

গরম পানীয় পান করুন:
গরম পানি, হালকা চা বা গ্রিন টি কফ পাতলা করতে সহায়তা করে এবং শ্বাস নিতে কিছুটা আরাম দেয়।

পরিবেশ পরিবর্তন করুন:
চারপাশে ধোঁয়া, ধুলো বা তীব্র গন্ধ থাকলে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে খোলা ও পরিষ্কার বাতাসে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন? নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে—

-কথা বলতে গেলে খুব কষ্ট হওয়া বা কথা আটকে যাওয়া

-ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যাওয়া

-বুকে তীব্র চাপ বা ভারী কিছু চেপে বসার মতো অনুভূতি

-হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসা বা অসাড় লাগা

-এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত রোগীকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Leave a Comment