মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার একটি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকের মারধরের শিকার হয়ে শ্রেণিকক্ষেই প্রসাব করে দিয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষকের ভয়ে স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে শিশুটি।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের বাংলাদেশ হাট এলাকায় অবস্থিত ওয়ান্ডার কিডস কেজি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আলিফ মিয়া (৮) স্কুলটির দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে শিবালয় উপজেলার তারাইল গ্রামের শাহীন মিয়ার ছেলে। বাবা প্রবাসে থাকায় বর্তমানে গড়পাড়া এলাকায় নানাবাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছে।
এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও শিশুটির চাচাতো নানা খবির উদ্দিন মুন্সী। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কথা বলে দোকানের শাটার নামিয়ে তাদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
জানা গেছে, ঘটনার পর বিষয়টি গোপনে মীমাংসার চেষ্টা করেন খবির উদ্দিন মুন্সী। তবে এতে সন্তুষ্ট না হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন শিশুটির মা।
শিশুটির মা তনিমা আক্তার বিথী জানান, আলিফের সঙ্গে তার এক সহপাঠীর ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ওই সহপাঠী আলিফের নাকে আঘাত করে। পরে আলিফ পেন্সিল দিয়ে ওই শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত করলে সে সামান্য আহত হয়।
তিনি বলেন, এ ঘটনার জেরে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ প্রথমে আলিফকে নিজের কক্ষে নিয়ে গিয়ে কয়েকটি থাপ্পড় দেন। পরে আবার শ্রেণিকক্ষে গিয়ে বেত দিয়ে মারধর করেন। এতে আলিফের পিঠ ও হাতে আঘাতের চিহ্ন পড়ে। মারধরের একপর্যায়ে ভয় পেয়ে সে শ্রেণিকক্ষেই প্রসাব করে দেয়। পরে স্কুলের এক শিক্ষিকা তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
তনিমা আক্তার বিথী আরও বলেন, “বাড়িতে ফিরে আলিফ কান্নাকাটি করে পুরো ঘটনা জানায়। পরদিন স্কুলে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে সাইদ স্যার কোনো দুঃখ প্রকাশ না করে উল্টো আমার ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “স্যারের মারধরের পর থেকে আমার ছেলে স্কুলে যেতে চায় না। শিক্ষকরা শাসন করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শাসনের কারণে যদি একটি শিশু আতঙ্কে প্রসাব করে দেয় এবং স্কুলে যেতে ভয় পায়, তাহলে তা মাত্রাতিরিক্ত। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ বলেন, “আলিফ একটু বেশি দুষ্টু। তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। ওই দিন সে আরেক শিক্ষার্থীকে পেন্সিল দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে। তাকে শাসন করতে গিয়ে হয়তো একটি আঘাত বেশি জোরে লেগে গেছে। যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন তো আর সেটা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।”
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Follow iNews Zoombangla On Google
Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from iNews Zoombangla in your Google news feed.

