
বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের অনমনীয় ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান এবং আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পক্ষ থেকে সুদের হার বাড়ানোর কঠোর ইঙ্গিতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। এই ধারাবাহিক পতনের ফলে মূল্যবান এই ধাতুটি টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) আন্তর্জাতিক পণ্য বাজারের এই মন্দাভাবের খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
আন্তর্জাতিক বাজারে আজ স্পট গোল্ড বা সদ্য উত্তোলিত সোনার দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৪ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে হিসাব করলে এই মূল্যবান ধাতুর দাম ইতিমধ্যেই প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে গেছে।
একই সঙ্গে আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন সোনার ফিউচার বা আগাম বাজার দর ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০২ দশমিক ১০ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ড্রাগন বোট ফেস্টিভ্যাল বা ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উৎসবের ছুটির কারণে মূল ভূখণ্ড চীন এবং হংকংয়ের শেয়ার বাজারগুলো আজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
বিশ্ববাজারে বর্তমানে মার্কিন ডলারের মান বিগত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যার ফলে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলারের মূল্যে নির্ধারিত সোনা কেনা অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন যে, ‘আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার শান্তি চুক্তির ওপর ভর করে সোনার বাজারে যে সুবাতাস এসেছিল তা খুবই ক্ষণস্থায়ী প্রমাণিত হয়েছে।’ তিনি জানান যে ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের কঠোর অবস্থানের কারণে চাঙ্গা হয়ে ওঠা ডলার এখন পুরো বাজারের আলো কেড়ে নিয়েছে এবং ভূরাজনৈতিক সুবিধার প্রভাবকে ধূলিসাৎ করে সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে মুদ্রানীতিই শেষ পর্যন্ত বাজার নিয়ন্ত্রণ করে।
কেভিন ওয়ারশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম নীতি নির্ধারণী সভায় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও গত বুধবার প্রকাশিত তাদের ভবিষ্যৎ প্রক্ষেপণে নতুন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ফেডারেল রিজার্ভের ১৯ জন নীতি নির্ধারকের মধ্যে ৯ জনই মনে করেন যে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ মূল নীতিগত সুদের হার আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন হতে পারে। মূলত ইরান যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে ঋণের খরচ বাড়াতে অথবা দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বাধ্য করছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর মাসে আমেরিকার সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৮৭ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যা ফেডারেল রিজার্ভের সভার আগে মাত্র ৬১ শতাংশ ছিল। সাধারণত সুদের হার উচ্চ থাকলে সোনা তার বিনিয়োগ আকর্ষণ হারায় কারণ এটি থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না।
এই বাস্তবতায় বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স আগামী ডিসেম্বর মাসের জন্য সোনার সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা আগের ৫ হাজার ৪০০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে কারণ ব্যাংকটি চলতি বছরে ফেডারেল রিজার্ভের পক্ষ থেকে সুদের হার কমানোর কোনো সম্ভাবনা দেখছে না।
ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে গত বৃহস্পতিবার ওমান উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারগুলো চলাচল শুরু করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর থেকে তাদের দীর্ঘদিনের নৌ অবরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
সোনার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, যার মধ্যে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৭৪ দশমিক ৪৭ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৬৮ দশমিক ৬৫ মার্কিন ডলারে এসে ঠেকেছে।
সূত্র: রয়টার্স
Follow
Follow iNews Zoombangla On Google
Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from iNews Zoombangla in your Google news feed.

