বিয়ের চাপ দেওয়ায় মা ও মেয়েকে হত্যা করে পরকীয়া প্রেমিক

পরকীয়া সম্পর্কের জেরে বিয়ের চাপ দেওয়ায় জাহানারা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার সঙ্গে থাকা তিন বছরের শিশু কন্যা সামিয়াকেও হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেয় প্রেমিক মো. উজ্জ্বল খান।

পরকীয়া প্রেমিক

আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের এমন বর্ণনা দিয়েছেন উজ্জ্বল খান (৩৮)। তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের বকারটিলা খাসেরকোল গ্রামের মৃত শাহজাহান খানের ছেলে।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম হত্যার রহস্য উদঘাটন ও অভিযুক্তকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, নিহত জাহানারার বাবা মো. লালন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাসার মোল্লা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত উজ্জ্বলকে ১৬ মে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকা থেকে আটক করেন। হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দিতে ব্যবহৃত একটি কোদালও জব্দ করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কর্ণসোনা গ্রামের আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩০) ও উজ্জ্বল রাজধানীর আমিনবাজার এলাকার একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা ওই সম্পর্কের একপর্যায়ে জাহানারা উজ্জ্বলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

এরই জের ধরে গত ৪ মে উজ্জ্বল মোবাইল ফোনে জাহানারাকে জামতলা বাজারে আসতে বলেন। সেদিন বিকেলে আত্মীয়ের বাড়িতে মিলাদ মাহফিল শেষে জাহানারা তার তিন বছরের মেয়ে সামিয়াকে নিয়ে সেখানে যান। পরে উজ্জ্বল তাদের ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি নির্জন পুকুরপাড়ে নিয়ে যান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে বিয়ে ও প্রেমসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে উজ্জ্বল জাহানারাকে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। এ সময় শিশু সামিয়া কান্নাকাটি শুরু করলে তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।

পরে উজ্জ্বল নিজের বাড়ি থেকে কোদাল এনে ঘটনাস্থলের পাশে পুকুরপাড়ে গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটিচাপা দেন এবং ওপরে কলাগাছ দিয়ে ঢেকে রাখেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত জাহানারা মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেঁওতা ইউনিয়নের নারান তেঁওতা গ্রামের মো. লালন মোল্লার মেয়ে। তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কর্ণসোনা গ্রামের আমজাদ শেখের স্ত্রী ছিলেন। নিহত সামিয়া ওই দম্পতির একমাত্র সন্তান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জাহানারার বাবা লালন মোল্লা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার ও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

এ সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

উল্লেখ্য, গত ১৪ মে বিকেলে ১১ দিন নিখোঁজ থাকার পর ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার পুকুর পাড় থেকে মাটিচাপা অবস্থায় জাহানারা ও শিশু কন্যা সামিয়ার (৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

Zoom Bangla News

Zoom Bangla News

inews.zoombangla.com

Follow

Follow iNews Zoombangla On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from iNews Zoombangla in your Google news feed.

Follow iNews Zoombangla On Google

Leave a Comment