খেজুর একটি পুষ্টিকর, শক্তিবর্ধক ও সুস্বাদু ফল। এতে প্রচুর ক্যালরি, আঁশ, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এ কারণে অনেক চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় খেজুর রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে শরীরচর্চা, ভ্রমণ বা দীর্ঘ সময় পরিশ্রমের পর দ্রুত শক্তি পুনরুদ্ধারে খেজুর অত্যন্ত কার্যকর।

তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে খেজুর খাওয়া নিয়ে অনেক সময় দ্বিধা দেখা দেয়। কারণ এতে প্রাকৃতিকভাবে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। ফলে অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম ও পরিমিত পরিমাণে খেলে ডায়াবেটিস রোগীরাও খেজুর খেতে পারেন। একে সম্পূর্ণভাবে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কোন খাবারের সঙ্গে এবং কীভাবে খাওয়া হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, খেজুর খাওয়ার পর রক্তে শর্করার প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করে এর সঙ্গে কী ধরনের খাবার গ্রহণ করা হচ্ছে তার ওপর।
বাদামের সঙ্গে খেজুর খাওয়া
পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুরের সঙ্গে বাদাম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি কমে যায়। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম বা আখরোটে থাকা প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি খেজুরের শর্করাকে ধীরে ধীরে শরীরে প্রবেশ করতে সহায়তা করে। ফলে চিনি দ্রুত রক্তে মিশে যেতে পারে না এবং শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ব্যায়ামের সময় খেজুর খাওয়া
ব্যায়ামের আগে বা পরে খেজুর খাওয়া উপকারী হতে পারে। ব্যায়ামের সময় শরীরের অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়, আর খেজুরের প্রাকৃতিক শর্করা দ্রুত শক্তি জোগায়। এ সময় শরীর সেই শক্তি ব্যবহার করে ফেলে, ফলে রক্তে অতিরিক্ত শর্করা জমার ঝুঁকি কমে যায়।
আঁশসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে খেজুর
খেজুরে কিছুটা আঁশ থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তাই পুষ্টিবিদরা খেজুরের সঙ্গে আঁশসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন। যেমন—চিয়া পুডিং, গ্রিক দই, শসা বা গাজরের সালাদ। এসব খাবারের আঁশ হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে, ফলে রক্তে শর্করা ধীরে ধীরে প্রবেশ করে এবং হঠাৎ করে বেড়ে যায় না।
Follow
Follow iNews Zoombangla On Google
Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from iNews Zoombangla in your Google news feed.

