পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাওরোচকি ঘোষণা করেছেন, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিলোদিমির জেলেনস্কিকে দেওয়া পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবেন। শুক্রবার (২৯ মে) তিনি এ কথা জানিয়েছেন বলে আনাদলুর খবরে বলা হয়েছে।

এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেন সম্প্রতি একটি সামরিক ইউনিটের নামকরণ করেছে ইউক্রেনীয় বিদ্রোহী সেনাবাহিনী (ইউপিএ)-এর বীরদের নামে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউপিএ-এর সদস্যরা হাজার হাজার জাতিগত পোলিশ নাগরিক হত্যার জন্য দায়ী বলে পোল্যান্ড দাবি করে।
এই সিদ্ধান্ত পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বিরোধকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে, যদিও রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ওয়ারশ এখনো কিয়েভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থক।
২৬ মে জেলেনস্কি একটি ডিক্রিতে ইউক্রেনের একটি বিশেষ অভিযান ইউনিটকে “হিরোজ অব দ্য ইউপিএ” উপাধি দেন। তিনি এটিকে ইউক্রেনের জাতীয় সামরিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে সিদ্ধান্তটি পোল্যান্ডের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
নাভরোৎস্কি বলেন, “এই সিদ্ধান্ত ভুক্তভোগীদের স্মৃতিকে আঘাত করে।” তাঁর মতে, ইউপিএ-কে সম্মান জানানো পোলিশ ও ইউক্রেনীয়দের মধ্যে প্রকৃত পুনর্মিলনের প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই ধরনের সমালোচনা করে জানিয়েছে যে এই পদক্ষেপ “ইউপিএ-এর শিকারদের স্মৃতিকে আহত করে এবং দুই দেশের মধ্যে সংলাপের ক্ষতি করে”
ইউপিএ নিয়ে বিতর্ক
ইউপিএ পোল্যান্ড-ইউক্রেন সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি। ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে ভলহিনিয়া ও পূর্ব গালিসিয়া অঞ্চলে ইউপিএ যোদ্ধারা পোলিশ বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল অভিযান চালায় বলে পোল্যান্ডের ইতিহাসবিদরা দাবি করেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১ লাখ পোলিশ নাগরিক নিহত হয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের একটি অংশ ইউপিএ-কে নাৎসি জার্মানি এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সংগ্রামের অংশ হিসেবে দেখে।
Follow
Follow Zoom Bangla News On Google
Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

