ফুটবল বিশ্বকাপ আর শাকিরা যেন একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ২০১০ সালের ‘ওয়াকা ওয়াকা’ আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় গানগুলোর একটি। ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই উন্মাদনা একটুও কমেনি। এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা, বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘ডাই ডাই’ দিয়ে। গানটির পাশাপাশি তার স্টাইল, বিশেষ করে টারকুইজ রঙের পোশাকও ভক্তদের নজর কাড়ে।

বিশ্বকাপ মঞ্চে শাকিরার দীর্ঘ যাত্রা
বিশ্বকাপের সঙ্গে শাকিরার সম্পর্ক নতুন নয়। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি গেয়েছিলেন ‘হিপস ডোন্ট লাই’। এরপর ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ‘লা লা লা’ পারফর্ম করে আবারও দর্শকদের মুগ্ধ করেন। প্রতিবারই তার পারফরম্যান্সে গান, নাচ আর স্টাইল আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
‘ডাই ডাই’ পারফরম্যান্সে ফ্যাশনের বিশেষ উপস্থিতি
‘ডাই ডাই’ গানে শাকিরাকে দেখা গেছে একাধিক ভিন্ন পোশাকে। প্রতিটি ডিজাইনে ছিল ফ্যাশন, কারুশিল্প এবং আধুনিক টেকসই ভাবনার মিশ্রণ। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে টারকুইজ রঙের বিশেষ পোশাকটি।
এই পোশাকটি তৈরি করেন ডিজাইনার গানার ডেথেরেজ এবং তার মায়ামিভিত্তিক টিম। পুরো স্টাইলিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন শাকিরার দীর্ঘদিনের স্টাইলিস্ট নিকোলাস ব্রু। তার পরিকল্পনায় পোশাকে গ্ল্যামার, নাটকীয় কাট এবং সূক্ষ্ম কারুকাজ একসঙ্গে উঠে আসে।
মাত্র চার দিনের মধ্যে তৈরি হয়েছিল পুরো লুক
চমকে দেওয়ার মতো বিষয় হলো, এই পোশাক তৈরি করতে মাসের পর মাস সময় লাগেনি। মাত্র চার দিনের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করা হয়। সময় ছিল খুবই সীমিত, আর চাপ ছিল প্রচণ্ড।
কাজের শুরু হয় কলম্বিয়ার মেডেলিনে, যেখানে ডিজাইনাররা ছুটি কাটাচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই তারা শাকিরার নতুন মিউজিক প্রজেক্টে কাজের প্রস্তাব পান। এরপর দ্রুতই তারা মায়ামির উদ্দেশে রওনা দেন।
মায়ামিতে গিয়ে শুরু হয় সময়ের সঙ্গে দৌড়। শুধু শাকিরার জন্য নয়, তার সঙ্গে থাকা নৃত্যশিল্পীদের জন্য আরও ছয়টি পোশাকও তৈরি করতে হয় ড্রেস রিহার্সালের আগেই। জায়গার অভাব এবং সময়ের চাপ দুইটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি হোটেল কক্ষকেই অস্থায়ী ওয়ার্কশপে পরিণত করা হয়। সেখানেই চলতে থাকে কাটিং, সেলাই এবং শেষ মুহূর্তের ডিজাইন পরিবর্তন।
প্রয়োজনীয় উপকরণ শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে দ্রুত সংগ্রহ করা হয়। পুরো টিম প্রায় না ঘুমিয়ে কাজ শেষ করে।
সূক্ষ্ম কারুকাজ ও ব্যক্তিগত ছোঁয়া
পোশাকটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল হাতে তৈরি ক্রোশের বেল্ট, যা তৈরি হয় নিকোলাস ব্রুর নির্দেশনায়। চামড়ার ওপর বসানো হয় টারকুইজ রঙের পুঁতি এবং সূক্ষ্ম বুননের কাজ।
ডিজাইনটি বেশ জটিল ছিল। জেড সবুজ এবং নীলের বিভিন্ন শেড মিলিয়ে তৈরি করা হয় পুরো পোশাক। নাচের সময় যাতে পোশাক স্বাভাবিকভাবে নড়ে এবং ক্যামেরায় আকর্ষণীয় দেখায়, সেটিও বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়।
স্কার্টের ফ্রিঞ্জ অংশ নাচের মুদ্রার সঙ্গে সুন্দরভাবে মানিয়ে যায়। এমনকি শাকিরার পেটেও পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে পুঁতির নকশা করা হয়।
আরও পড়ুনঃ
https://zoombangla.com/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3/
ডিজাইনারের ব্যক্তিগত গল্প
ডিজাইনার গানার ডেথেরেজ পরে জানান, স্কুলজীবনে তাঁত ও বুননের কাজ নিয়ে তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। কিন্তু সেই দক্ষতাই পরে তার ক্যারিয়ারের বড় শক্তিতে পরিণত হয় এবং তাকে শাকিরার মতো বিশ্ব তারকার জন্য কাজ করার সুযোগ এনে দেয়।
এই গল্প শুধু একটি পোশাক তৈরির নয়, বরং সময়, চাপ, সৃজনশীলতা এবং স্বপ্নের এক অসাধারণ সমন্বয়ের গল্প।
সূত্র: ল্যাটিনেশন
Follow
Follow iNews Zoombangla On Google
Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from iNews Zoombangla in your Google news feed.

