মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের করচাবাধা গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক অন্ধ ব্যক্তির পরিবার পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি ও হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে গিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে পরিবারটি।

লিখিত অভিযোগে মো. মোতালেব মিয়া জানান, তিনি ও তার অন্ধ বড় ভাই ইদ্রিস আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বসতভিটায় বসবাস করে আসছেন। তাদের দাবি, প্রতিবেশী নাসিমা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের জমির ওপর দিয়ে চলাচলের রাস্তা জোরপূর্বক প্রশস্ত ও পাকা করার চেষ্টা করছেন। এতে বাধা দিলে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, জমিতে রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে হামলার চেষ্টা করে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং প্রতিপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ জুন সকালে প্রতিপক্ষ আবারও রাস্তা পাকা করার চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো দা, লোহার রড ও কাঠের বাটাম নিয়ে বাড়িতে এসে হামলার চেষ্টা করে এবং জমি ছেড়ে না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ ঘটনার পর তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে গত ১ জুলাই নাসিমা আক্তারের দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের অংশ হিসেবে ঘিওর থানার এএসআই আব্দুর রাজ্জাক অন্ধ ইদ্রিস আলীর বাড়িতে গিয়ে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ইদ্রিস আলী।
তিনি বলেন, “এবারই প্রথম নয়, আগেও অনেকবার পুলিশ এসে আমাদের জমি ছেড়ে দিতে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়েছে। নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। আমাদের প্রতিপক্ষ লোক ভাড়া করেও আমাদের হয়রানি করেছে।”
অভিযোগকারী মো. মোতালেব মিয়া বলেন, “অল্প একটু জমির ওপর আমাদের বসতভিটা। সেখান থেকে তাদের যাতায়াতের জন্য কিছু জমি দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আরও বেশি জমি দখল করে রাস্তা পাকা করতে চায়। এতে বাধা দেওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, নানা ধরনের হয়রানি করছে এবং হামলার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঘিওর থানার এএসআই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “নাসিমা আক্তারের দেওয়া অভিযোগের তদন্তে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে উভয় পক্ষকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করতে অথবা আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। কাউকে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আপনি যে অভিযোগের কথা বললেন, এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা দুঃখজনক। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Follow
Follow iNews Zoombangla On Google
Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from iNews Zoombangla in your Google news feed.

