‘রিয়াল খেলোয়াড়রা হারুক’—বিশ্বকাপ নিয়ে মজার ইচ্ছা প্রকাশ মরিনহোর

বিশ্বকাপ মানেই স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর উত্তেজনার মঞ্চ। আর সেই মঞ্চে কোন দল কতটা এগিয়ে, তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সফল ও অভিজ্ঞ কোচ হোসে মরিনহোও ব্যতিক্রম নন। আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। তার বিশ্বাস, পর্তুগালের সামনে এবার শিরোপা জয়ের বাস্তব সুযোগ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে একাধিক শক্তিশালী দল সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

‘রিয়াল খেলোয়াড়রা হারুক’—বিশ্বকাপ নিয়ে মজার ইচ্ছা প্রকাশ মরিনহোর

একটি পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মরিনহো বলেন, বর্তমান পর্তুগাল দল প্রতিভা, অভিজ্ঞতা এবং ভারসাম্যের দিক থেকে অনেক পরিণত। তাই শিরোপার স্বপ্ন দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে তাদের। তবে তিনি এটাও মনে করিয়ে দেন যে, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে কোনো একক দলকে একমাত্র ফেবারিট বলা কঠিন।

ইংল্যান্ড প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মরিনহো আবারও তাদের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই ইংল্যান্ডকে বড় টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখে আসছেন তিনি। ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, স্টিভেন জেরার্ড, জন টেরি, রিও ফার্দিনান্দ এবং ডেভিড বেকহ্যামের প্রজন্মের সময় থেকেও তিনি ইংল্যান্ডের সাফল্যের আশা করেছিলেন। কিন্তু নানা কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

তার মতে, ইংলিশ ফুটবলের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। বিশ্বের অনেক সেরা ফুটবলার বর্তমানে ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুটবলে খেলছেন। তবে অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও গণমাধ্যমের চাপ অনেক সময় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা বড় মঞ্চে সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

মরিনহোর দৃষ্টিতে ফ্রান্সও অন্যতম শক্তিশালী দল। তিনি মনে করেন, ফরাসি স্কোয়াড এতটাই সমৃদ্ধ যে তারা একাধিক শক্তিশালী একাদশ গঠন করতে পারে। পাশাপাশি স্পেন, আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলকেও শিরোপা জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখছেন তিনি।

বিশেষ করে ব্রাজিলের ক্ষেত্রে তিনি কোচ কার্লো আনচেলত্তির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। মরিনহোর মতে, বড় টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞ কোচের উপস্থিতি অনেক সময় দলের পারফরম্যান্সে বড় পার্থক্য গড়ে দেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ায়।

তবে জাতীয় দলের লড়াইয়ের বাইরে ক্লাব ফুটবলের বাস্তবতাও ভুলে যাচ্ছেন না মরিনহো। বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে যুক্ত এই কোচের দলে রয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের বেশ কয়েকজন তারকা। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহ্যাম, অরেলিয়েন চুয়ামেনি, থিবো কোর্তোয়া ও আন্তোনিও রুডিগারের মতো খেলোয়াড়রা নিজ নিজ দেশের হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন।

মজার বিষয় হলো, বিশ্বকাপের বাকি অংশে কী দেখতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে হাস্যরসের সুরে মরিনহো বলেন, তিনি চান রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা দ্রুত টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিক। কারণ তারা যত দ্রুত ক্লাবে ফিরবে, তত দ্রুত প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু করা সম্ভব হবে।

তার এই মন্তব্যে যেমন রসিকতার ছাপ রয়েছে, তেমনি রয়েছে একজন ক্লাব কোচের বাস্তব চিন্তাও। বিশ্বকাপে জাতীয় দলের সাফল্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নতুন মৌসুমের প্রস্তুতির জন্য খেলোয়াড়দের সময়মতো পাওয়া ক্লাবগুলোর জন্যও সমান জরুরি।

বিশ্বকাপের উত্তাপ যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে শিরোপা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা। আর সেই আলোচনায় হোসে মরিনহোর মূল্যায়ন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পর্তুগালের সম্ভাবনা, ইংল্যান্ডের চ্যালেঞ্জ, ফ্রান্সের শক্তি এবং ব্রাজিলের অভিজ্ঞ নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে তার চোখে এবারের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক মহারণ।

Zoom Bangla News

Zoom Bangla News

inews.zoombangla.com

Follow

Follow iNews Zoombangla On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from iNews Zoombangla in your Google news feed.

Follow iNews Zoombangla On Google

Leave a Comment