
প্রশাসনের অন্দরমহলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ও প্রভাবশালী কর্মকর্তা, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার একান্ত সচিব (পিএস) মো. আবুল হাসানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড লঙ্ঘন এবং অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্র জানায়, পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আবুল হাসান অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করেন। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পিএসদের সরাসরি ভূমিকা না থাকলেও বাস্তবে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও তার মতামত কার্যকর ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে স্থানীয় সরকার বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি প্রক্রিয়ায় তার অনানুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া অনেক ফাইল অগ্রসর হয়নি বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রশাসনের ভেতরে এমন একটি বলয় তৈরি হয়েছিল, যেখানে সিনিয়র কর্মকর্তারাও তার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না।”
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করেন আবুল হাসান। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিদেশে কর্মরত থাকলেও পরবর্তীতে দেশে ফিরে নতুন ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন।
একটি প্রভাবশালী মহলের সমর্থনে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান এবং অল্প সময়ের মধ্যে প্রভাবশালী অবস্থানে পৌঁছান।
পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেই তার যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি এবং পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পদায়ন নিয়েও প্রশাসনের ভেতরে প্রশ্ন ওঠে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, “স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এমন দ্রুত পদোন্নতি ও আকর্ষণীয় পোস্টিং পাওয়া কঠিন।”
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে Zoombangla.com–এ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ভিডিও রিপোর্টও প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। সম্পাদক ও প্রতিবেদকের ওপর বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি, চাপ প্রয়োগ এবং প্রতিবেদন অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
মেইনস্ট্রিম ও টিভি মিডিয়ার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ করে চাপ সৃষ্টি, হেনস্থা এবং পত্রিকার কার্যক্রম বন্ধের হুমকির ঘটনাও সামনে আসে। এমনকি স্বল্প সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন বাতিলের নোটিস জারির হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পরবর্তীতে প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেওয়া হলেও বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আলোচনায় আসে।
অবশেষে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. আবুল হাসানকে ওএসডি করা হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।